সারাবিশ্ব

উগ্রবাদী ইমামদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিমের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ এএম

উগ্রবাদী ইমামদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিমের
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সামরিক সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘উগ্রবাদী ইসলাম’ হিসেবে যেসব কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

ত্রাওরে বলেন, ধর্মের নামে উগ্রবাদ ছড়ানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তার ভাষায়, “যদি এটিই আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের পরিবর্তন হতে হবে। তারা পরিবর্তিত না হলে, যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।”

এর আগে দেশটিতে কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটক করা হয় এবং নতুন একটি ধর্মীয় আইন পাস করা হয়, যা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ত্রাওরে এই আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানান, এটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব ইমাম খুতবায় উগ্রবাদ প্রচার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা ইসলামের শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়াবেন, তাদের প্রতি সরকারের সমর্থন থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে, ত্রাওরে অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক সরকারের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের উত্তেজনা বেড়েছে। গত মে মাসে নতুন ধর্মীয় আইনের খসড়ার সমালোচনা করায় সুন্নি ইমাম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে। এরপর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজধানী ওয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইমাম কিন্দোর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইমাম কিন্দোর প্রায় ১০০ সমর্থককে আটক করে সেনাবাহিনীর একটি বন্দিশিবিরে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে। এর আগে এপ্রিল মাসে একই ধরনের অভিযোগে মাহমুদ বারো নামের আরেক ইমামকে আটক করা হয়েছিল।

গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে নতুন ধর্মীয় আইন পাস করে। আইনে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো, ধর্মের অপব্যবহার এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, এই আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা ও ধর্মের অপব্যবহার ঠেকানোর উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার একটি পদক্ষেপ।