সারাবিশ্ব
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে পদ ছাড়লেন মার্কিন সেনাসচিব
প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা মতবিরোধের মধ্যেই তার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
সোমবার হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রিসকল ও হেগসেথের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েন চলছিল। তবে তাদের বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
৪১ বছর বয়সী ড্রিসকল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী সেনাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাকে প্রায়ই ‘ট্রাম্পের ড্রোন-ম্যান’ হিসেবে অভিহিত করা হতো।
ড্রিসকলের পদত্যাগের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস তার প্রশংসা করেছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং অ্যাগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। সামরিক অভিযানেও তিনি অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আলোচনায় তার ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
পেন্টাগনে ধারাবাহিক পরিবর্তন
ড্রিসকলের পদত্যাগ এমন সময়ে হলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে একের পর এক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
এর আগে এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান দায়িত্ব ছাড়েন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হেগসেথের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। পরে ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন, ফেলানের সঙ্গে অন্যদের কিছু ‘দ্বন্দ্ব’ ছিল।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাও সম্প্রতি দায়িত্ব ছেড়েছেন। পেন্টাগনে দায়িত্ব নেওয়ার পর হেগসেথ এক ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিরোধের নেপথ্যে ড্রোন প্রযুক্তি
ড্রিসকল ও হেগসেথের বিরোধের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন জেনারেল র্যান্ডি জর্জ। এপ্রিলে হেগসেথ জর্জকে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ ছাড়তে বলার পর তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান। এ ঘটনায় ড্রিসকলের সঙ্গে হেগসেথের টানাপোড়েন আরও বেড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ড্রিসকল ও জর্জ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ড্রোনসহ চালকবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সেই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় সেনাবাহিনী। এ বিষয়েও ড্রিসকল ও পেন্টাগনের নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা। সক্রিয় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ বাহিনী পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
সেনাবাহিনী থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের আলোচনায়
ড্রিসকল ২০০৭ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তিনি একটি অশ্বারোহী প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন এবং ২০০৯ সালে ইরাকে মোতায়েন ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী ছেড়ে আইন ও বিনিয়োগ খাতে কাজ করেন।
সেনাসচিব হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আধুনিকায়নে জোর দেন তিনি। এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনে তিনি ‘ড্রোন-ম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের উদ্যোগেও ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক উপদেষ্টাও ছিলেন ড্রিসকল। ইয়েল ল স্কুলে পড়ার সময় তাদের পরিচয় হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনে ড্রিসকলের দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি