গণমাধ্যম

পরীমণির প্রশ্নের মুখে আপত্তিকর ভিডিও সরাতে দেরির কারণ জানাল মাছরাঙা টেলিভিশন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ এএম

পরীমণির প্রশ্নের মুখে আপত্তিকর ভিডিও সরাতে দেরির কারণ জানাল মাছরাঙা টেলিভিশন
ছবি: সংগৃহীত

একটি মূলধারার গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ও পর্নোগ্রাফিক ভিডিও সরাতে দীর্ঘ সময় লাগায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়। এ নিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমণিসহ বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তোলার পর ঘটনার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, মেটার নীতিমালা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

শনিবার ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত সোমবার ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মুখাবয়ব পরিবর্তনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমণিকে জড়িয়ে দুটি সম্পাদিত অশ্লীল ভিডিওসহ মোট পাঁচটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

দ্য ডিসেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং সরানোর আগেই লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্তও ভিডিওগুলো অ্যাকাউন্টে সক্রিয় ছিল। এ সময় সেগুলোতে বিপুলসংখ্যক ভিউ ও মন্তব্য জমা হয়। সোমবার রাতে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর দ্রুত ভিডিওগুলো সরাতে না পারায় পরীমণিসহ অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিও সরাতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে মাছরাঙা টেলিভিশন জানায়, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর মেটার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং প্রশাসনিক অনুমোদন নিশ্চিত করতে সময় লেগেছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ১৩ অক্টোবর সকালে মেটার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেটা নিজ উদ্যোগে অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

মাছরাঙা আরও জানায়, মেটার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপত্তিকর কনটেন্ট সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর সেটির অনুলিপি সংযুক্ত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে আপত্তিকর ভিডিওগুলো পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়।

ঘটনার আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই অভিনেত্রী ও মাছরাঙা টেলিভিশনকে নিয়ে তৈরি আপত্তিকর এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টগুলো ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নিতে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন।