সারাবিশ্ব

১০ তলা থেকে পড়ে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু, চিকিৎসকদের চেষ্টায় প্রাণে বাঁচল অনাগত শিশু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

১০ তলা থেকে পড়ে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু, চিকিৎসকদের চেষ্টায় প্রাণে বাঁচল অনাগত শিশু
ছবিঃ সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের লিডস শহরে হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় ১০ তলা ভবনের জানালা থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী এমা অ্যাটকিনসন। তবে মৃত্যুর মুখ থেকেও চিকিৎসকদের দ্রুত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর গর্ভের অনাগত কন্যাশিশু।

সম্প্রতি এ ঘটনায় অনুষ্ঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত (ইনকোয়েস্ট) শুনানিতে উঠে এসেছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য। খবর ডেইলি মেইল।

তদন্তে জানা গেছে, গত বছরের ২২ অক্টোবর এমা লিডসের শেকসপিয়ার টাওয়ারে বাবার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি বাবার কাছে একটি সিগারেট চান এবং জানালার পাশে রাখা একটি চেয়ারে বসে জানালার কাচ পুরোপুরি খুলে দেন। বাইরে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছিল বলে তাঁর বাবা ডেভিড অ্যাটকিনসন জানালাটি বন্ধ করতে বলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি মেয়ের মুখে ‘আমি যাচ্ছি’ ধরনের একটি কথা শুনতে পান। ফিরে তাকাতেই দেখেন, এমার দুই পা ইতোমধ্যে জানালার বাইরে চলে গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি ১০ তলা থেকে নিচে পড়ে যান।

মেয়েকে পড়ে যেতে দেখে দ্রুত নিচে ছুটে যান ডেভিড। ভবনের এক অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় এমাকে লিডস জেনারেল ইনফার্মারিতে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তবে চিকিৎসকেরা সময় নষ্ট না করে জরুরি অস্ত্রোপচার করে এমার গর্ভে থাকা শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগেই জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটির নাম রাখা হয় পোসি।

ইনকোয়েস্টে আরও জানা যায়, এমার আগে দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার ইতিহাস ছিল এবং তাঁর ইমোশনালি আনস্টেবল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (Emotionally Unstable Personality Disorder) শনাক্ত হয়েছিল। 

তবে মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গর্ভাবস্থার ছবি শেয়ার করে অনাগত কন্যাসন্তানকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, আর মাত্র ১০ সপ্তাহ পর তাঁর মেয়ের জন্ম হওয়ার কথা এবং মা হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

এমার মৃত্যুর পরদিন বন্ধু ও স্বজনেরা শেকসপিয়ার টাওয়ারের সামনে বেলুন উড়িয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তাঁর মেয়ে ডেমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, “শান্তিতে ঘুমাও মা। তুমি ছিলে একেবারে অনন্য। তোমাকে আমি ভীষণভাবে মিস করি।”

জন্মের পর প্রায় এক মাস নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল পোসি। পরে প্রথমে তার জৈবিক বাবা মাইকেল সোয়ানসনের পরিবারের কাছে এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন মাইকেলের বোন লরেন মিচেল। বর্তমানে লিডসে নিজের ছয় বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে পোসিকে বড় করে তুলছেন তিনি।

এদিকে লরেন জানান, পোসি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি একটি শিশু। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও তার শরীরে কোনো স্থায়ী শারীরিক জটিলতার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। 

তিনি আরও বলেন, পরিবারের শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল পোসিকে নিজেদের কাছেই বড় করা হবে এবং বড় হলে তাকে জানানো হবে, তার মা তাকে পৃথিবীতে আনার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এত উঁচু থেকে গর্ভবতী মায়ের পড়ে যাওয়ার পরও গর্ভের শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে যাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বর্তমানে পোসির শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক রয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও একটি ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর ঘটনা।

সূত্র: ডেইলি মেইল।