সারাবিশ্ব

ভারতীয় সেই পাইলটকে ‘নায়ক’ বললেন ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ভারতীয় সেই পাইলটকে ‘নায়ক’ বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সংকটময় মুহূর্তে বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এক যাত্রীর সাহসিকতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাইলট স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। তাঁর চিৎকার শুনে অন্য যাত্রী ও ক্রুরা দ্রুত ককপিটের দিকে এগিয়ে যান এবং হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানের এক যাত্রীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে তিনি এ বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রী পেশায় একজন প্লাম্বার এবং তাঁর আগে বিমান চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ওই যাত্রী টেলিভিশনে প্রচারিত বিমান দুর্ঘটনাবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে বিমান পরিচালনার কিছু মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তিনি সংকটের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেন বলে ট্রাম্পের বক্তব্য।

এরপর বিমানের পেছনের অংশে থাকা অতিরিক্ত পাইলট ও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ককপিটে পৌঁছান। তাঁরা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। গুরুতর আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে সহ-পাইলটের হামলার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। তবে যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ককপিটে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনার পর বিমানের সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।

তবে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আরও কয়েকটি প্রাথমিক সূত্রের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন। এসব তথ্যের সবকিছু তিনি স্বাধীনভাবে যাচাই করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে ঘটনার কিছু বিবরণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।