সারাবিশ্ব

নামাজের কথা বলেই ভারতীয় পাইলটকে কুঠার দিয়ে হামলা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

নামাজের কথা বলেই ভারতীয় পাইলটকে কুঠার দিয়ে হামলা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আহত অবস্থায় শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে প্রাণে বাঁচেন পাইলট। পরে কয়েকজন যাত্রীর সাহসিকতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় প্রথমে পাইলট স্মিত মাচ্ছার ভেবেছিলেন, বিমানে হয়তো বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক কোনো বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরপর আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, কো-পাইলট হামামি তাকে আক্রমণ করছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেলের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন হামামি। একই সঙ্গে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

আঘাতে মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন।

ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে নিজেকেই কিছু করতে হবে। শেষ শক্তি দিয়ে দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন তিনি।

এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে হামামিকে সরিয়ে দেন। যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। পরে তাকে গলা ধরে সরিয়ে দেন এবং অন্য যাত্রীরা বেঁধে ফেলেন।

হামামিকে সরানোর পর বিমানটি মাটির দিকে নেমে যেতে দেখেন হায়ুন। তিনি নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ধরে বিমানটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

মাচ্ছারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার থেকে পাঁচ মিনিট পরই তার মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত আসে।

এদিকে হামামির অতীত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে তাকে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না।

ঘটনাটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন দেশটির কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এর আগে একই দুবাই থেকে তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন হামামি।

এ ঘটনার পর বিদেশি বিমান সংস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আলজাজিরা, সিবিএস নিউজ