সারাবিশ্ব

এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লাখ ডলারের বেশি করার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লাখ ডলারের বেশি করার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর আগে গত বছর একই ধরনের ফি আরোপ করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা স্থগিত হয়ে যায়। এবার প্রস্তাবিত বিধিমালার মাধ্যমে নতুন করে সেই ফি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাবিত বিধিমালা ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিধিমালাটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা এক জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই ফি আরোপ করা হয়। এর ফলে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

তবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক এই ফি বেআইনি ঘোষণা করে তা আদায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। বর্তমানে বোস্টনের একটি আপিল আদালতে সেই রায় পর্যালোচনা চলছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসির আরেকটি আদালতে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর করা আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিচার চলছে।

ট্রাম্পের গত বছরের আদেশের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে এর আগেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ওই ব্যবস্থাকে স্থায়ী বিধিমালায় রূপ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ দেন। প্রতি বছর এই কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা অনুমোদন করা হয়। ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর।

এর আগে এই ভিসার জন্য সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মতো খরচ হতো। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক

রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এইচ-১বি ভিসার সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয় এবং এর ফলে স্থানীয় কর্মীরা চাকরি হারান।

অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিশেষায়িত অনেক পদে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী পাওয়া যায় না। তাই বৈশ্বিকভাবে দক্ষ ও মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করতে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান মোট ৮৫টি ভিসা আবেদনের বিপরীতে ১ লাখ ডলার করে ফি পরিশোধ করেছে।

এই ফি আরোপের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের বিশেষ আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। তার প্রশাসনের দাবি, এটি প্রচলিত কোনো কর নয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স, ডেমোক্র্যাট-শাসিত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিয়োগকর্তাদের একটি জোট এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে মামলাগুলোতে সংশোধনী এনে আবারও আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হতে পারে।

আইনি জটিলতার পাশাপাশি কমেছে আবেদন

মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মূল আইনকে অকার্যকর করা যায় না। তাদের দাবি, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে এ ধরনের ফি বা কর আরোপ করতে পারে না।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এই ফি কোনো প্রচলিত কর নয় এবং বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব পড়েছে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের সংখ্যাতেও। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিয়োগকর্তারা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার নিবন্ধন করেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ২৫ শতাংশেরও বেশি কম। আর ২০২৩ সালের প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার আবেদনের তুলনায় তা অর্ধেকেরও কম।

এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের কঠোরভাবে পটভূমি যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বেশি বেতন ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি আগস্টের শুরুতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথক একটি বিধির মাধ্যমে এইচ-১বি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো অথবা অন্য দেশে থাকা কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে বদলি করার আবেদনে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি যুক্ত করেছে।

সূত্র: রয়টার্স