জাতীয়
ক্লাস চলাকালেই ভবনে আছড়ে পড়ে বিমান, ছিল ১০০-১৫০ শিক্ষার্থী
রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জুনিয়র সেকশনের ভবনে ক্লাস চলাকালেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনার সময় ওই ভবনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করা এফ-৭ বিজিআই মডেলের ফাইটার-ট্রেইনার বিমানটি মাত্র ১৩ মিনিট পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনের উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণ ও আগুনে ছেয়ে যায় চারপাশ।
ঘটনার সময় স্কুলের নার্সারি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলছিল। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, ছুটির ঘণ্টা বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে এই ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটে। বিমানটি সরাসরি জুনিয়র সেকশনের ভবনে ধাক্কা দেয়, যেখানে নার্সারি, ক্লাস ওয়ান, টু, থ্রি—এই শ্রেণিগুলোর ক্লাস চলছিল।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আতঙ্ক আর ছোটাছুটি। ভবনের ভিতরে থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও প্রাণপণে বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকে। বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকরা দৌড়ে ভিতরে ছুটে যান সন্তানদের খোঁজে।
স্কুলের এক শিক্ষক জানান, “বিকট শব্দটা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভবন কাঁপে উঠল। তারপর আগুন আর ধোঁয়ার মধ্যে কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। একে একে বাচ্চাদের বের করে আনছি, অনেকেই আগুনে দগ্ধ হয়েছে।”
বিমান বিধ্বস্তের পরপরই দগ্ধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬০ জন দগ্ধ হয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৬০ জনের বেশি আহতকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান জানান, “বার্ন ইনস্টিটিউটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। নতুন করে রোগী এলে তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হবে।”
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা, টঙ্গী, কুর্মিটোলা, মিরপুর, পূর্বাচলসহ ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এছাড়া সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। ভবনের ভেতর থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ হতে সর্বশেষ জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ১৬৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।