জাতীয়

তবে কি অভিমানেই কক্সবাজারে গেছেন হাসনাত-সারজিসরা!


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৬ পিএম

তবে কি অভিমানেই কক্সবাজারে গেছেন হাসনাত-সারজিসরা!
ছবি: সংগৃহীত

গতকাল জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ছিল নানা কর্মসূচি। ঠিক সে সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতা ব্যক্তিগত সফরে ছিলেন কক্সবাজারে।

এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কক্সবাজার সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠলেও, বিষয়টি অস্বীকার করেছে দলটি। 

জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারের বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বললেও কেউ এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে সরাসরি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

এনসিপির এক নেতা জানান, আমরাও এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি। এসব নেতারা দলের তেমন কাউকে জানিয়ে কক্সবাজার যাননি। একেকজনের কাছে একেক ধরনের কথা শুনতে পাচ্ছি। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, তাতে এটা ব্যক্তিগত ট্যুর বলেই জানা যাচ্ছে। দলীয় কোন ট্যুর নয়।

1 ncp-dhakaprokash.jpg
কক্সবাজার সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা বলছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র আমরা বয়কট করেছি। এ বিষয়ে ৫ আগস্টের আগেই সব সমন্বয়কের মিটিং হয়েছে। সেখানে ১৩০ জনের বেশি সমন্বয়ক প্রোগ্রাম বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, জুলাই ঘোষণাপত্রে শহীদ ও আহতদের চেতনার প্রতিফলন নেই। এছাড়া ১৫৮ জন সমন্বয়ক গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি হলেও তাদের সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। যেই সমন্বয়করা জীবন বাজি রেখে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকে ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করলে আমরা কেন সেখানে যাব? হান্নান মাসউদসহ প্রায় সবাই ঘোষণা দিয়েই অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। অনুষ্ঠান যেহেতু বয়কট হয়েছে, সেজন্য এনসিপির এসব নেতা ও সাবেক সমন্বয়করা ঢাকার বাইরে যেতেই পারেন। এখানে থাকলে তো তাদেরকে হয়তোবা প্রোগ্রামে যেতেও হতে পারে। সেটি ১৩০ জন সমন্বয়কের সিদ্ধান্তের অবমাননা হবে। এজন্য তারা ঢাকার বাইরে চলে যেতে পারেন।

dhakaprokash- july 36.jpg
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

তবে এনসিপির একাধিক নেতা এবং সরকারি এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। তারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমদের মাইনাস করার ষড়যন্ত্র চলছে। ‘ড. ইউনুসের স্বজনপ্রীতির প্রমাণ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা’- জুলাই পদযাত্রায় হাসনাতের এমন বক্তব্যের পর সরকারের সাথেও তাদের দূরত্ব বেড়েছে। এর জেরেই স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে নিয়ম দেখিয়ে সমন্বয়কদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। সেসব বিষয় নিয়ে অভিমান-দূরত্বের জেরেই গণঅভ্যুত্থান দিবসে তারা ঢাকার বাইরে যেতে পারেন।

দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে আগে থেকে না জানিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নোটিশের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

ncp-dhakaprokash 1.jpg
কারণ দর্শানোর নোটিশ । ছবি: সংগৃহীত

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কক্সবাজার ঘুরতে এসে আলোচনার জন্ম দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ৫ শীর্ষ নেতা এখন পর্যটন শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তারা শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সী-পার্ল হোটেল ত্যাগ করেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। 

শহরে পৌঁছে কলাতলীর একটি রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেল ৩টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত 'প্রাসাদ প্যারাডাইজ' হোটেলে উঠেছেন তারা। স্থানীয় কিছু এনসিপি সংগঠক তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ ও এনসিপি কর্মীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ছবি না তুলতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক এনসিপি নেতা বলেন, গুজবের কারণে তাদের খুবই বিব্রত মনে হলো। এটি ব্যক্তিগত সফর বলেই মনে হয়েছে।

সমালোচনার মধ্যে এবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে লাইভে এসে বার্তা দিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাইভে আসেন তিনি।

ncp-dhakaprokash 2.jpg
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাইভে আসেন সারজিস। ছবি: সংগৃহীত

এ সময় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের সামনে ২৪ দফার ইশতেহার দেওয়া হয়েছে। এই ২৪ দফার মধ্যে ২১ নম্বরে বলা হয়েছে জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং নদী ও সমুদ্র রক্ষার কথা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশাল সম্ভাবনার জায়গা এই সমুদ্র। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমরা কিভাবে এই সমদ্রকে, আমাদের বায়ো ডাইভারসিটিকে রক্ষা করতে পারি; সমুদ্র তীরবর্তী মানুষের টেকসই জীবনধারণ কিভাবে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের আশঙ্কা অনেক বাড়িঘর সমুদ্রে বিলীন হতে পারে। সে জন্য আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সেই জায়গায় সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থান দিবসে এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং তাসনিম জারাসহ বেশ কয়েকজন নেতার কক্সবাজার যাওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সাথে বৈঠকের তথ্যে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও কক্সবাজারের সী পার্ল হোটেলের সামনে জড়ো হন। এসময় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, পিটার হাসের সাথে বৈঠকের খবর গুজব। আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি।