জাতীয়

অন্যায়ের ভিডিও না করে মোবাইল ছুঁড়ে মারলেও অন্তত কিছুটা প্রতিরোধ হয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম

অন্যায়ের ভিডিও না করে মোবাইল ছুঁড়ে মারলেও অন্তত কিছুটা প্রতিরোধ হয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণে বেশি মনোযোগী। আগে কোনও অন্যায় বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে মানুষ একসাথে প্রতিরোধ করত, কিন্তু এখন তা কমে গেছে।

তিনি বলেন, “অন্যায়ের ভিডিও না করে মোবাইল ছুঁড়ে মারলেও অন্তত কিছুটা প্রতিরোধ হয়।”

রোববার (১০ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এক ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটুক, তা কেউ ভাবতেও পারে না। তবে প্রাণহানির ক্ষতিপূরণ কোনওভাবেই সম্ভব নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শাস্তি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, পাবলিক চার্টার আইন অনুযায়ী জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার প্রতিরোধ সম্ভব হয়।

শেরপুরে স্ত্রীকে জীবন্ত কবর দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটেনি। অনেকেই টাকা রোজগারের জন্য পুরনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় এতটাই বেড়েছে যে, নানী-নানাকে হত্যার সময় নাতি উদ্ধার না করে ভিডিও করছে। জীবনের চেয়ে তার কাছে ভিডিও দিয়ে অর্থ উপার্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানীদের মতামত ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

নিউমার্কেট থেকে অস্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেখানে যে অস্ত্র পাওয়া গেছে তা দেশীয়। যারা এসব বিক্রি করে তাদের সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি জানান, প্রায় সাতশ অস্ত্র বেহাত হয়েছে, যা উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এবার প্রতিটি প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে অস্ত্রসহ তিনজন আনসার সদস্য থাকবে, যা আগে দুইজন ছিল। বডি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রার্থীদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে।”