জাতীয়
জামায়াত নেতার বক্তব্যে উত্তেজনা, তেড়ে গেলেন এক ডাক্তার!
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ-২০২৫ অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এর বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি বলেন, “ওষুধ কোম্পানিগুলো ডাক্তারদের প্রেসক্রাইব করানোর জন্য বিপুল অর্থ খরচ করে। এর ফলে ওষুধের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা ডাক্তারদের সুবিধার জন্য ব্যয় করা হয়।”
এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত এক চিকিৎসক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। উত্তেজিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “টাকা নিলে সাজা দেন না কেন? এতদিনে কোন ডাক্তারকে সাজা দেওয়া হয়েছে? কেন এই অভিযোগ করবেন?” চিকিৎসকের এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় মুহূর্তেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় জামায়াতের নেতা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেননি; বরং ওষুধ কোম্পানিগুলো যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে, সেটিই তুলে ধরেছেন। কিন্তু তার আগেই ক্ষুব্ধ চিকিৎসক উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
ঘটনার এক পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান মঞ্চ থেকে উঠে এসে ওই চিকিৎসকের কাছে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে তিনি বিরক্ত হয়ে বলরুমের গেটের দিকে এগিয়ে যান এবং বলেন, “নো, দিস ইজ টু মাচ।” পরে কয়েকজন আয়োজকের অনুরোধে তিনি আবার মঞ্চে ফিরে আসেন।
পরে নিজের বক্তব্যে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানিগুলোর অডিট রিপোর্ট দেখেছি। কেউ কেউ শুধু বিজ্ঞাপন খাতেই ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে। পাঁচতারকা হোটেলে একটি সেমিনারে কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়। গালা নাইটে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এমনকি একসঙ্গে ৪০ জন চিকিৎসককে বিদেশ সফরে নেওয়ার প্রমাণও আমাদের কাছে নথিভুক্ত আছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে ১ লাখ ৪০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে হয়তো এক লাখ চিকিৎসক কোনো ধরনের সুবিধা নেন না। কিন্তু বাকিদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাঁচতারকা হোটেলে ভোজসভা, বিদেশ সফর, গালা নাইট—এসব খরচ কে বহন করে? এ নিয়ে বিতর্কের দরকার নেই। আমাদের কাছে সব তথ্য রয়েছে।”
সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাটি স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম ও ওষুধ কোম্পানির প্রভাবকে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে।