জাতীয়
তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষাও অনিশ্চিত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সারাদেশে সাড়ে ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার এই স্থবিরতা অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, রবিবার রাতের মধ্যে দাবি পূরণের বিষয়ে সরকার কার্যকর সিদ্ধান্ত না দিলে সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করা হবে। আগামীকাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষকরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না-এমন ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এর আগে ৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় পুনরায় কর্মবিরতিতে ফেরেন।
কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধে গত ২৭ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি শিক্ষক নেতাদের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষক নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার স্থায়ী সমাধান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা
শিক্ষকদের এই আন্দোলন এবং সরকারের নীরবতা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড় করিয়েছে।