জাতীয়
বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের স্ত্রী আফরোজার ভবনসহ জমি জব্দের আদেশ
দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের মুখে থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগমের নামে থাকা রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকার বিপুল সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে গুলশানে দশমিক ৪৯৫০ একর জমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনসহ জমি এবং ভাটারা এলাকায় তিন দশমিক ৩৭৭ একর জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আফরোজা বেগমের মালিকানাধীন এসব স্থাবর সম্পত্তি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক ইতোমধ্যে ১০ সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে।
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। দুদকের কাছে এমন তথ্যও এসেছে যে, আফরোজা বেগম তার মালিকানাধীন এসব স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। ফলে অনুসন্ধান শেষে সম্ভাব্য মামলা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এসব সম্পত্তি জব্দ করা জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত বড় বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তৎপর হয় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা। এর অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বসুন্ধরা গ্রুপসহ পাঁচটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। এ সময় তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য জানতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠিও পাঠানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আহমেদ আকবর সোবহান, তার চার ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট আটজনের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। একই মাসে দুদকের আবেদনের পর আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর সিআইডি দেড় লাখ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আহমেদ আকবর সোবহান, তার ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত জানায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আদালতের আদেশে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও শেয়ারও অবরুদ্ধ করা হয়।
এছাড়া গত জুনে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান (সানভীর) এবং কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহানের যুক্তরাজ্যে পাচার করা সম্পদের তথ্য সে দেশের কর্তৃপক্ষকে জানাতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সবশেষে, গত ১০ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এসব মামলার পাশাপাশি চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের এ আদেশ এলো।