জাতীয়

বন্ধ পাটকলে ১,০৫০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ, হবে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

বন্ধ পাটকলে ১,০৫০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ, হবে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোকে আবারও উৎপাদনমুখী করে তুলতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ কার্যত দায়ে পরিণত হয়। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, নতুন এই প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার নিজে শিল্প পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি ও যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি পাটকলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের মোট ৭৭ দশমিক ০২ একর জমির মধ্যে আগে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন শুল্কনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্য উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। এই রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি এবং অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হায়দার জানান, সরকারের উদ্যোগে গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে ৫০ টনে উন্নীত হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসি-র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদন করা হবে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।