জাতীয়

ভারতে নেওয়ার আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

ভারতে নেওয়ার আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে র‍্যাব-১ কার্যালয়ের গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এর একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

আজ শনিবার (০১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিচারকদের সরেজমিন পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে সংরক্ষণ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে হাত ও চোখ বেঁধে ব্যক্তিদের দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীও রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীর বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করেছেন। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ওই স্থাপনায় আটকে রাখার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, র‍্যাব-১ পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন।

চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান মানা হয়নি। তার মতে, অবৈধ আটক, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং এসব অভিযোগে বিচার ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

এছাড়া পরিদর্শনের সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামতও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তদন্তে প্রমাণ নষ্ট বা গোপন করার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বিচার পরিচালনায় প্রসিকিউশন কাজ করছে এবং এসব ঘটনায় মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি নির্দেশদাতাদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য দায়ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।