জাতীয়
নৌ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান নৌপরিবহন মন্ত্রীর
দেশের নৌ ও শিপিং খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, নৌ খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো ও জনশক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের জলদিয়ায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে-২০২৬ ও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএএ) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের নৌ ও শিপিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর বড় ধরনের ঘাটতি নেই। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়াতে পারলে দেশের সম্ভাবনাময় মেরিটাইম খাত আরও দ্রুত বিকশিত হবে।
তিনি বলেন, সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও এ ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে নৌ-বাণিজ্য, বন্দর, শিপিং এবং মেরিটাইম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথায় কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, এসব অবকাঠামো থেকে সর্বোচ্চ সেবা ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে দক্ষ ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।
বিশ্বের প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশাল এই কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ জনশক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি এ খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পিসিটি, এনসিটি, লালদিয়া ও বে টার্মিনালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর এবং দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরেও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর ও মেরিটাইম খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি এসব বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করতে সেবার মান, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতাও সমানভাবে উন্নত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের নৌ খাত আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারি। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে গার্ড অব অনার, প্যারেড পরিদর্শন, বর্ণাঢ্য র্যালি, বেলুন উড়ানো ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেরিন ক্যাডেট এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যেও শেখ রবিউল আলমকে মন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীমকে কমান্ড্যান্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।