জাতীয়

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য-‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের বার্তাতেও দীর্ঘায়ু মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য, পেনশন, আবাসন, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘায়ু একদিকে মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ জীবন যেন নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও দায়িত্বশীল। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণ নাগরিকদের অবহেলার পরিবর্তে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

প্রবীণ নাগরিকদের পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের দীর্ঘ জীবনের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজে দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি সমুন্নত থাকবে, প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে তরুণ কিংবা প্রবীণ-বয়স নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।

তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।