জাতীয়

এলপিজির কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম ঠেকাতে ডিসিদের নজরদারির নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

এলপিজির কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম ঠেকাতে ডিসিদের নজরদারির নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কোথাও এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপি গ্যাসের সরবরাহ, বাজার পরিস্থিতি এবং মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে সামগ্রিকভাবে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেন কোথাও কোথাও এলপিজির সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা স্থানীয়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কোথায় সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে, কোথায় কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ রয়েছে এবং কোন পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে-এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

জ্বালানিমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য ও প্রতিবেদন পাওয়ার পর এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কোনো এলাকায় প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ কম থাকলে সেখানে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে কিংবা পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তারা যাতে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি কিনতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের কোথাও এলপিজির সরবরাহ নিয়ে প্রকৃত সমস্যা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।