জাতীয়

উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিতে স্থানীয়দের তদারকির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিতে স্থানীয়দের তদারকির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি উন্নয়নকাজের মান ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কোনো এলাকায় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিতভাবে কাজের অগ্রগতি ও মান পর্যবেক্ষণ করা উচিত। এতে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ কমবে এবং জনগণ তাদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

বুধবার (তারিখ) সকালে সিলেট নগরের কানিশাইল এলাকায় সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষাকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে প্রতিটি এলাকায় স্থানীয়ভাবে তদারকি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এ ধরনের কমিটিতে মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৌশলীসহ এলাকার সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তারা নিয়মিত প্রকল্পের কাজ পর্যবেক্ষণ করলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়মও অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, “নিজের অধিকার আদায়ে নিজেকেই সচেতন হতে হবে।” জনগণ যদি নিজেদের এলাকার উন্নয়নকাজ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং নিয়মিত তদারকি করে, তাহলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সুরমা নদীর তীর সংরক্ষণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় নগরের মীরেরচক, মেন্দিবাগ, কানিশাইল, টুকেরবাজার ও মীরেরগাঁও এলাকায় নদীর তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হবে। নদীভাঙন রোধ এবং জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কুশিয়ারা, বাসিয়া, গোয়াইন এবং সারি-গোয়াইন নদীতেও পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণকাজের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, সিলেট নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের সমস্যা কমানোর পাশাপাশি নগরবাসীর যোগাযোগব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।