জাতীয়

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে কোনো ধরনের নতুন ‘যৌথ অভিযান’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার ও ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে নতুন করে কোনো যৌথ অভিযান পরিচালনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো নিজেদের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিতভাবে কাজ করে থাকে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এই সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপন করা আনসার বাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় তুলনামূলকভাবে অপরিসর জায়গা থেকে আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জায়গার সংকটের পাশাপাশি বর্তমান অবস্থানের যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে তেজগাঁও এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বৃহৎ সদর দপ্তর নির্মাণ করা হবে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্যসহ জনবল বিবেচনায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী।

কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকটের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন সদর দপ্তরে সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন সুবিধা তৈরির পাশাপাশি ডরমিটরি ও ব্যারাক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজ করা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অবদানের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণের ক্ষেত্রেও সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেই বিষয়টি শেষ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ এবং ফৌজদারি মামলা করা হচ্ছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তিকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলে আরও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাস্তা খনন ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কারণে রাজধানীতে যানজটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, সড়কে উন্নয়ন বা নির্মাণকাজ করার সময় পুরো রাস্তা একসঙ্গে কেটে ফেলার পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করতে হবে। একটি অংশের কাজ শেষ করে দ্রুত তা পুনর্নির্মাণের পর পরবর্তী অংশে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে উন্নয়নকাজ চলাকালে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, পিএসসি,সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।