জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে বেতন নির্ধারণের এ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।

তবে সব সরকারি চাকরিজীবী সমান অঙ্কের বকেয়া পাবেন না। নতুন বেতনকাঠামোয় নির্ধারিত বেতন, বর্তমান মূল বেতন, গ্রেড ও চাকরির বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেকের পাওনা আলাদাভাবে হিসাব করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আইবাস++ এর মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, সর্বশেষ মূল বেতন এবং আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য দিতে ও যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া পদোন্নতি, বদলি, সময়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি, বাছাই গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিও যাচাই করা হবে। এসব তথ্যে ভুল বা অসংগতি থাকলে নতুন বেতন নির্ধারণ এবং বকেয়া হিসাবের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পার্থক্যের ৪০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।

এই হিসাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের প্রাপ্য বকেয়া অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে পরিশোধের কথা রয়েছে। তবে বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে চাকরিজীবীর গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখের ওপর।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে দুই ধাপে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ পরিশোধের জন্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পে ফিক্সেশনের জন্য চাকরিজীবীদের অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় এসব তথ্য যাচাই করবে। অনলাইনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে চাকরির নথি বা আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যে অমিল থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।

শুধু আইবাস++ এ তথ্য পূরণ করলেই বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হবে না। চাকরির পুরো ইতিহাস, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।

তথ্য যাচাই ও বেতন নির্ধারণ শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই থেকে জমে থাকা বকেয়া পাওনার হিসাবও চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন বেতনকাঠামোয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে এবং চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে আগের বেতনকাঠামোয় সময়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি, বাছাই গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সমাধানে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের কাঠামোয় একই পদে দুই বা তার বেশি বাছাই গ্রেড, সময়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় একই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর বেতন স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পে ফিক্সেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির আওতায় আইবাস++ কর্তৃপক্ষ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।

এতে প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক, জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশনের সময় প্রত্যেক চাকরিজীবীর বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও বেতন নির্ধারণের ইতিহাস যাচাই করা হবে। তথ্য সঠিকভাবে যাচাই ও বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হলেই নতুন মূল বেতন এবং জুলাই থেকে জমে থাকা বকেয়া পাওনার নির্ভুল হিসাব করা সম্ভব হবে।