জাতীয়

শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবনে থাকুন, তার মহান পেশার কারণেই আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক ও শিক্ষিকারাই আদর্শ হয়ে ওঠেন। তাই শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের এই সময়ে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাই শেখানো ও শেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এবং শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের যেন বইবিমুখ হয়ে পড়তে না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। মুখস্থ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মনে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’ প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল থাকলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, আনন্দময় শিক্ষা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আনন্দের সঙ্গে শেখা’ শিরোনামে নতুন একটি বই দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এই বই দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বাড়িয়েছে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকেও আরও আধুনিক করতে হবে।

দেশে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। কেউ শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে ঝরে পড়লেও যেন বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থায় শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের কিছু পার্থক্য এখনও রয়েছে। তবে সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন হলেও কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মান শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পরিবারের পর শিক্ষক ও শিক্ষিকারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ ও সম্মানের দিক থেকে আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিক্ষকতা কখনোই উপায়হীন বিকল্প কিংবা সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। সবচেয়ে মেধাবী মানুষ যেন কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিও জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পায়।