জাতীয়

আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন: ডেপুটি স্পিকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন: ডেপুটি স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার রূপকার ও ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করার পরই জাতীয় পুনর্মিলনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সোমবার, ৫ অক্টোবর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘মহাসংলাপ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিশ্বজুড়ে জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার চেষ্টা। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে জন্য বিচারিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাসকদের ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ার না বানিয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখতে রাজি নন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার ভাষ্য, এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোর মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়নের ঘটনা। দীর্ঘদিন আইনের শাসন উপেক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্যই মানুষ লড়াই করেছে।

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, যারা পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে, তারা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার যোগ্যতা চিরতরে হারিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজপথে রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, সেই ইতিহাস মনে রেখে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো স্বৈরতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে নস্যাৎ করতে পারে।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিচারহীনতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের এই অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষক ও চিন্তাবিদ অংশ নেন। এতে বক্তব্য দেন নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন কেন্দ্রের অধ্যাপক করোরি সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিতসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার।