জাতীয়

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ এএম

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ তহবিল গঠন করা হচ্ছে।

জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল ১ নভেম্বর দিবসটি উদ্‌যাপিত হবে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তরুণদের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাফল্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এসব তরুণের অনেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

জাতীয় যুব পুরস্কারকে যুবসমাজের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দনও জানান তিনি।

বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠা যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণেরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

পরিবেশ সংরক্ষণেও যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণেরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।

ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষাসহ নতুন নতুন খাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরিশেষে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।