রাজনীতি
পুলিশের এক ছবি একাধিকবার ব্যবহার, রাব্বানীকে নিয়ে ক্ষোভ ও ট্রলের ঝড়
আওয়ামী লীগের একাংশ ও তাদের সাবেক নেতাদের নিয়ে গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ নতুন নয়। দলটির পতনের পর থেকেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
সম্প্রতি রাব্বানী বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মৃত্যুর একটি ‘তালিকা’ শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। তিনি লেখেন, "শোক, শ্রদ্ধায় স্মরি। অসহায় পরিবারের হাহাকার, আর্তচিৎকার, কান্না বৃথা যাবে না। বিচার হবে ইনশাআল্লাহ।" তার এমন বক্তব্য ও পোস্টের প্রেক্ষিতে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রথমত, রাব্বানী দাবি করেন যে ৩২০০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, অথচ তিনি যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তাতে মাত্র ৪৪ জনের নাম ও কিছু ছবি ছিল। এমনকি একাধিক পুলিশ সদস্যের ছবি কপি করে একই তালিকায় বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এএফপির সাবেক ফ্যাক্ট চেকার ও সাংবাদিক কদরউদ্দিন শিশির।
শিশির বলেন, "এরা মানুষের মৃত্যুকেও হাসির খোরাক বানিয়ে ফেলছে। প্রতিটা পুলিশের মৃত্যু — সে অপরাধী হোক বা না হোক — দুঃখজনক। কিন্তু এরা এই মৃত্যুর খবর দিয়েও মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।"
তিনি আরও বলেন, "ভুয়া খবর ছড়ায় যে ৩২০০ পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ফেসবুকে যে তালিকা দিয়েছে, সেটা পুলিশের দেওয়া ৪৪ জনের সরকারি তালিকা। তাও আবার কয়েকজনের ছবি অন্যদের নামের সঙ্গে বসানো! এর মানে, নিহতদের নিজেদের তালিকা বা ছবি তাদের কাছে নেই।"
রাব্বানীর এমন পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও সমালোচনার ঝড়। নেটিজেন মিনহাজুল আবেদীন জয় কমেন্ট করেছেন, "বাকি ২৯৫৬ জনের ছবি কই?"
এস এম মিজানুর রহমান লিখেছেন, "মাছের মায়ের পুত্রশোক!"
আরেকজন ওয়াসিম সায়ীদ লিখেছেন, "৪৮ জনের জায়গা ছিল ছবিতে। মিলাতে গিয়ে শেষে ৪ জনকে বড় করে দিয়ে ৪৪ জন রাখসে। ৩০০০ না, বরং ৫০০০ই হইছে নাকি?"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকেই মনে করছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা এবং বিভাজনের চেষ্টা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডার অংশ হিসেবে এ ধরনের তথ্য বিকৃতি একদিকে যেমন সাধারণ জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে গুজব ছড়ানোর শামিল।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিয়ে, মানবিক ঘটনা নিয়েও যারা রাজনীতি করতে চায়, তাদের আসল উদ্দেশ্য জনগণ ঠিকই বুঝতে পারছে। অপরদিকে, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি এমন ভুয়া সহমর্মিতা প্রদর্শন করাকে অনেকেই কৌশলগত ভণ্ডামি হিসেবে দেখছেন।
গোলাম রাব্বানীর এমন পোস্ট শুধু গুজব নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকার পতনের পরও একদল রাজনীতিবিদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রবণতা কতটা গভীর তা-ই উঠে এসেছে এই ঘটনাটিতে।