রাজনীতি

নিলে দুটো শপথ, নাহলে একটিও নয় :  ১১ দলীয় জোট


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এএম

নিলে দুটো শপথ, নাহলে একটিও নয় :  ১১ দলীয় জোট
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য-এই দুই পরিচয়ে একসঙ্গে শপথ নিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দুটি শপথ একসঙ্গে না হলে তারা সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন না। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিরসনে জাতীয় সংসদ ভবন-এর ভেতর বিএনপি, জামায়াত এবং বিদায়ী সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টায় জামায়াতের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের সময় নির্ধারিত থাকলেও এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় সংসদ ভবনে অবস্থান করছেন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের জোটভুক্ত সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য সংবিধানে এখনও কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। মঙ্গলবার সকালে শপথ গ্রহণের আগে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তিনি বলেন,
“সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের একটি ফরম থাকলেও আমরা কেউ এই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনো এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়, তাহলে আগে সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপর কারা শপথ পড়াবেন, সে বিষয়েও সাংবিধানিক বিধান থাকতে হবে। বর্তমানে সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই।”

দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সংবিধান মেনে চলছি এবং ভবিষ্যতেও সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেব না।”

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপি।

অন্যদিকে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। দলটির সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে এই মতবিরোধ শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সে দিকে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।