রাজনীতি
সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, সদস্য সচিবসহ ১১ নেতা বহিষ্কার
পাবনার সুজানগর উপজেলায় মোবাইল ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) শুরু হওয়া এই বিরোধ বুধবার (৯ জুলাই) রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফসহ অন্তত ১৫ জন। এ ঘটনার জেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি উপজেলা সদস্য সচিবসহ মোট ১১ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন– সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রউফ শেখ (৫২), ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার (২৮), যুবদল নেতা মনজেদ শেখ (৪৫), পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর খাঁ (৬০), উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য কামাল শেখ (৪৬), পৌর যুবদল সদস্য মানিক খাঁ (৩৮), এনএ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল খাঁ (২৫), পৌর ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রুহুল খাঁ (৪০), বিএনপি কর্মী লেবু খাঁ (৬০) ও যুবদল কর্মী হালিম শেখ (৪০)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজানগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এদের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এতে জড়িত মোলায়েম খাঁ ও সুরুজসহ আরও কিছু ব্যক্তিকে বিএনপি বা এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেউ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনোভাবে ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, মঙ্গলবার ছাত্রদল নেতা কাউছার ও তার অনুসারীরা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খাঁয়ের অনুসারী আশিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তা ভেঙে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও পরদিন বুধবার দুপুরে সিনেমা হলের সামনে পুনরায় সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। আশিক তার চাচাতো ভাই ছাত্রদল নেতা সবুজকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি এবং ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। সবুজ মারধরের শিকার হন।
এর জেরে মজিবর খাঁ, লেবু খাঁ, মানিক, সুরুজসহ একটি দল ঘটনাস্থলে এসে কাউছার গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঘটনাস্থলে গেলে উভয়পক্ষকে শান্ত করতে গিয়ে সদস্য সচিব আব্দুর রউফও হামলার শিকার হন। তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, এখনো এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি করা হয়েছে। তবে গুরুতর আহত সদস্য সচিব রউফ শেখকে বহিষ্কারের বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”