রাজনীতি

নির্বাচনের আগে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান এনসিপির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম

নির্বাচনের আগে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান এনসিপির
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি চললেও, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করছে—শুধু নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং এর আগে সরকারের কিছু মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলা মোটরের রূপায়ন টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও অবস্থান তুলে ধরেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

আখতার হোসেন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ঘোষিত নির্বাচনের সময় (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি) নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচন আয়োজনের আগে সরকারকে তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে—এক, গণহত্যাকারীদের বিচার; দুই, কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন; এবং তিন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।”

তিনি অভিযোগ করেন, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ অসম্পূর্ণ। এর মধ্যে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘প্রায় এক হাজার শহীদ’; অথচ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ১,৪০০। শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থতা সরকারের দায়িত্বহীনতাকেই প্রমাণ করে বলে দাবি করেন তিনি।

আখতার হোসেন আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর অভিযান, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর কোনো উল্লেখই ঘোষণাপত্রে নেই। ফলে এটি পূর্ণাঙ্গ বা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

এনসিপির দীর্ঘদিনের দাবি নতুন সংবিধান প্রণয়ন। কিন্তু ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের পর সংস্কারকৃত সংবিধানে এই ঘোষণা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আখতার হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, “এটি আমাদের দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কৌশল। আমরা চাই সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান, যা জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের দাবি মেটাবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব সংস্কার নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, তার বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনো নেই। এটি উদ্বেগজনক এবং সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

আখতার হোসেন সরকারের কাছে চারটি বিষয় স্পষ্টভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান—সংস্কার কার্যকর শুরু করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই; গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে; প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে এবং একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়ে তুলতে হবে। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং তাতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে শুধুমাত্র ভোটের দিন নয়, বরং তার আগে সরকারের কতটা প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতা দেখাতে পারে তার ওপর।”