রাজনীতি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
‘জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তাদের অংশগ্রহণই আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং গণঅভ্যুত্থানকে সফল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আয়োজনে ‘জুলাই-২০২৪’ গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান এবং শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় কেউ কেউ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বরং মানুষের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ১৮ জুলাই রামপুরায় ছয়জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
জুলাই আন্দোলনের সময় নিজের কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তখন তিনি কারাগারে থাকলেও বাইরে থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারেন, ১৬ ও ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সেই পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়ে নতুন গতি এনে দেন।
তিনি আরও বলেন, ২০ জুলাইয়ের পর বহু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে অমানবিক পরিবেশে কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না পেলেও তারা মনোবল হারাননি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি অটল ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ কখনো কোনো দেশের অধীনস্থ হয়ে থাকবে না। আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়কে ধারণ করে সামরিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। জুলাই অভ্যুত্থানেও তার নির্দেশনা ও নেতৃত্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছেন।
স্মরণসভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দুর সঞ্চালনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।