সারাদেশ
‘জঙ্গি নাটকে’ তিন ছাত্রীকে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ, সেই শিক্ষিকার পদোন্নতি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের তিন ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানাকে পদোন্নতি দিয়ে বদলি করা হয়েছে। তাকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার বদলির বিষয়টি জানানো হয়।
নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি কলেজটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী ও মামলার নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে থাকা ওই তিন ছাত্রীর কাছে কিছু ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ তোলা হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে আদালতে আইনি লড়াই চালাতে হয় তিন ছাত্রীকে। মামলার কারণে তাদের জামিনসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিকভাবেও নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
চলতি বছরের ২৪ মে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন ছাত্রীকে খালাস দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের এই রায়ে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অবসান ঘটে।
নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী বলেন, প্রায় নয় বছর নয় মাস ২৭ দিন ধরে মামলাটি চলেছে। এত দীর্ঘ সময়েও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, ‘‘এখন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটির নাম দেওয়া হোক আজীবন তদন্ত কমিটি। নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা থেকে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?’’
অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোনে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘‘তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? ভাগ্য ভালো, সরকার পরিবর্তনের কারণে তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, কলেজের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওই বইগুলোকে ইসলামিক বই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘‘আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই, জঙ্গিবাদের বই নয়।’’
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চলা মামলায় তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া এবং এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার পদোন্নতি দিয়ে বদলির ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সরকারি নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।