সারাদেশ
চাঁদাবাজির অভিযোগ নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীর হাতে বেধড়ক পিটুনি খেলেন যুবদল নেতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম মাহমুদকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় ভাটিয়ারী বিজয় সরণি কলেজ গেট এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সেলিম মাহমুদের দাবি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা যুবদল নেতা মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনের দাবি, স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনায় এই হামলা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রবিউল হোসেন রবির ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল রড ও লাঠি নিয়ে সেখানে আসে। এ সময় কার্যালয়ে বসে থাকা সেলিম মাহমুদকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে ৮ থেকে ১০ জনকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেলিমের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেলিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, সরকারের পতনের পর সেভেন স্টার নামের একটি চক্র দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলোতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাকে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে ওই চক্রের সদস্যরা আগেও কারাগারে গেছেন। এমনকি আদালতে ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি না করার মুচলেকা দিয়ে জামিন নেওয়ার পরও তারা আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
তবে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, সেলিম মাহমুদ দলের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করেন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বুধবার একটি কারখানা থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার পরও তাকে সতর্ক করা হলে তিনি তা বন্ধ করেননি। এ কারণে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেছেন বলে দাবি করেন কফিল উদ্দিন।
ভাটিয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। তবে দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। অপরাধীদের শাস্তি পেতে হবে।
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল করিম চৌধুরী আহত সেলিম মাহমুদের পক্ষ নিয়ে তাকে দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রবিউল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগও করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।