সারাদেশ

১০০ টাকা দিয়ে খাবার কিনে দিয়েছিল তাজমীন, সেই চালকের হাতেই প্রাণ গেল


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

১০০ টাকা দিয়ে খাবার কিনে দিয়েছিল তাজমীন, সেই চালকের হাতেই প্রাণ গেল
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষুধার কথা শুনে যে কিশোরী নিজের ১০০ টাকা দিয়ে তাকে রুটি ও কলা কিনে দিয়েছিল, সেই চালকের বিরুদ্ধেই ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এসব তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে জান্নাতুল তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন বুধবার গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমীন।

দ্রুত বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাজমীন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে সুমন কিশোরীর মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে ধর্ষণের অভিযোগ নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে তদন্তকারীরা।

হত্যাকাণ্ডের পর তাজমীনের ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সুমন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফোন ও নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাজমীনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং এর আগে চার দিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে কার কার সংস্পর্শে ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, মামলার প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত সুমনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত ছয়ের বিচারক মো. মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়।

এদিকে তাজমীন হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লার অন্যতম প্রবেশদ্বার পদুয়ার বাজার এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় চালকের ছদ্মবেশে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল একই এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ফয়সাল হোসেন রাব্বী জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ফিরে পদুয়ার বাজারে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার সময় এক অটোরিকশাচালক তাকে শর্টকাট পথে শাসনগাছা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অটোরিকশায় ওঠার পর চালক উল্টো পথে যেতে শুরু করেন। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা আরেক ব্যক্তির আচরণেও সন্দেহ হয় তার। পরে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থেকে নেমে একটি হোটেলে আশ্রয় নেন তিনি। তার অভিযোগ, এরপরও অটোরিকশাটি তাকে অনুসরণ করছিল।

একের পর এক অপরাধের ঘটনায় পদুয়ার বাজারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রাতের পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে।