সারাদেশ

দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে ৫০০ টাকায় চুল বিক্রি করলেন মা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ পিএম

দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে ৫০০ টাকায় চুল বিক্রি করলেন মা
ছবি: সংগৃহীত

দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার বসবাস খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়। মাত্র ৫০০ টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেহানা আগে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ভাড়া বকেয়া থাকায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার অসহায় অবস্থা দেখে এলাকাবাসী সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজ সংলগ্ন স্থানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে সেই কাঠামো আর পূর্ণতা পায়নি। টিন ও বেড়া না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন রেহানা।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন রেহানা। একদিন তাকে মাথায় চুল ছাড়া দেখে জানতে চাইলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ঘরের ভাড়া মেটাতে চুল বিক্রি করতে হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা রহিম শেখ জানান, রেহানার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

মহিদুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, ইতোমধ্যে বাঁশের কাঠামো তৈরি হয়েছে। এখন টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা হলেই একটি বসবাসযোগ্য ঘর তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সমাজের সচ্ছল ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি অসম্পূর্ণ ঘরের কাঠামোর নিচেই সন্তানদের নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। তবে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে সেটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করছেন তিনি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাবারের ব্যবস্থাও করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিরুপায় হয়েই চুল বিক্রি করতে হয়েছে জানিয়ে তিনি সরকারের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সহায়তা কামনা করেন।

অসহায় এই পরিবারের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।