সারাদেশ

মাগুরার আমজাদ বানালেন সাড়ে ৭ কিলোমিটার জার্মানির পতাকা 


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

মাগুরার আমজাদ বানালেন সাড়ে ৭ কিলোমিটার জার্মানির পতাকা 
ছবিঃ সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই নতুন করে আলোচনায় আসেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। জার্মান ফুটবল দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে গত দুই দশক ধরে তিনি বিশাল আকৃতির জার্মান পতাকা তৈরি করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার তিনি তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা, যা এখন পর্যন্ত তাঁর তৈরি সবচেয়ে বড় পতাকা।

বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন পেশায় একজন কৃষক। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের সামর্থ্য ও ভালোবাসা থেকে জার্মানির পতাকা তৈরি করে আসছেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পেয়েছে।

আমজাদের পতাকা তৈরির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সে বছর জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় ৩৫০ গজ দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই তিনি এর দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে চলেছেন। ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা।

তিনি জানান, ২০০৪–০৫ সালের দিকে তিনি একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর এক পর্যায়ে জার্মানিতে তৈরি একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করেন তিনি। সেই সুস্থতার পর থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি জার্মান ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পতাকা তৈরি শুরু করেন।

তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না। পতাকা তৈরির ব্যয় বহন করতে গিয়ে একাধিকবার আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ২০১৪ সালে পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও পতাকা তৈরির খরচ মেটাতে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছিলেন তিনি। ওই বছর পতাকা তৈরিতে তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। একই বছর জার্মানি বিশ্বকাপ জেতার পর আনন্দ ভাগাভাগি করতে তিনি গরু জবাই করে মেজবানও আয়োজন করেন।

আমজাদ হোসেনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তাঁর তৈরি পতাকা উদ্বোধন করেন। পরে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর পতাকা প্রদর্শনীতে অংশ নেন।

আমজাদ হোসেন বলেন, “আমি ভালোবাসা থেকেই এসব করি। কখনো কারও কাছে সাহায্য চাইনি। এবার আমার সন্তানেরাই পতাকা তৈরির খরচ বহন করেছে। আমি এই পতাকাটি জার্মান দূতাবাসকে উপহার দিতে চাই। তারা চাইলে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করতে পারে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, সুস্থ থাকলে ২০৩০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা তৈরি করতে চান এবং সেটি জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।