সারাদেশ

ঝিনাইদহে শ্রেণিকক্ষে জোর করে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

ঝিনাইদহে শ্রেণিকক্ষে জোর করে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতি
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহে শ্রেণিকক্ষে জোর করে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতিঝিনাইদহের শৈলকূপায় বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল জোরপূর্বক কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনা, হট্টগোল এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নেন। পরে পাশের বাজার থেকে দুজন নাপিত এনে শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই তাদের চুল কাটানো হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে এর প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন অভিযোগ করে বলে, “আমাদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে জোর করে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।”

আরেক শিক্ষার্থী সাকিন হোসেনও একই অভিযোগ করে জানায়, “পাশের বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে আমাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি বলেন, আগের দিন অভিভাবকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এলোমেলোভাবে চুল রাখা শিক্ষার্থীদের চুল পরিপাটি করে কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ লেখা সংবলিত মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাতাহাতির বিষয়ে তিনি বলেন, একজন অভিভাবক উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক বলেন, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা মোটেই কাম্য ছিল না। তবে সাবেক সভাপতি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যেই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহফুজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। পরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।