সারাদেশ

নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ


প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক গরমিলের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি আগামী ৩ আগস্ট সরেজমিনে তদন্ত শুরু করবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা এবং উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. মাসুদ হোসেন পলাশ স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষক আরলিজা খাতুনের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হবে।

নোটিশে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট সব মূল নথি, হিসাবপত্র, রেজিস্টার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভাউচার, সভার কার্যবিবরণী এবং নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী, অভিযুক্ত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের তদন্তের সময় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করলে তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে।

এর আগে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৫ টাকার আর্থিক গরমিলের অভিযোগ উঠে। প্রতিবেদনে গত ২১ মাসে কলেজ তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূত ব্যয়, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, হিসাব গোপন এবং বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।

অডিট প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষা ও ভর্তি উপকমিটির সদস্যদের সম্মানী না দিয়েও কাগজে অর্থ পরিশোধ দেখানো হয়েছে। এছাড়া কলেজের গাছ বিক্রির অর্থ মূল ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়া, জাতীয় দিবস পালন না করেও বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন, ক্রয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কেনাকাটা, দরপত্র ছাড়া ব্যয়, টিএ-ডিএ বিল উত্তোলন এবং অভিভাবক সমাবেশ না করেও ব্যয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিগ্রি শাখার ভর্তি, সেশন ও ফরম পূরণের অর্থ নিয়মিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আলাদা হিসাবে পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ওই শাখার ব্যয় বহন করা হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার সাধারণ তহবিল থেকে, যা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয়-ব্যয়ের চিত্র আড়াল করেছে বলে অভিযোগ।

এদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষক আরলিজা খাতুনের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন হাজিরা খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথিতে তার নাম ছিল না। পরে পুরোনো নিয়োগ দেখিয়ে বেতন চালুর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এ নিয়োগের বিপরীতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজের শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিস এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির। তিনি বলেন, “সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট তদন্তেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”

গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ৩ আগস্টের সরেজমিন তদন্তকে কেন্দ্র করে কলেজজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।