সারাদেশ

ছাত্রদলকে দাওয়াত না দেওয়ায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

ছাত্রদলকে দাওয়াত না দেওয়ায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাট সরকারি কলেজে চলমান ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে খেলা বন্ধের দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঝাড়ু হাতে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ, শিক্ষকদের সঙ্গে হট্টগোল এবং এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতারা।

কলেজের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৩ আগস্ট কলেজ মাঠে ‘জুলাই-আগস্ট স্মৃতি আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ শুরু হয়। শনিবার রসায়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের খেলা চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে তার কার্যালয়ে যান। তাদের টুর্নামেন্টে দাওয়াত দেওয়া হয়নি—এ নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন ছাত্র তার সঙ্গে কথা বলতে কক্ষে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তাদের একজন ঝাড়ু হাতে কক্ষে ঢোকেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে হট্টগোলের মধ্যে কক্ষের গ্লাস, ফুলের টব ও মঞ্চের টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ছাত্রদের মূল দাবি ছিল মাঠের খেলা বন্ধ করা। তবে তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। তার ভাষ্য, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও মাঠে খেলাধুলা চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

ঘটনার সময় কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি আবু বকর সিদ্দিক নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জিএম আরেফিন বলেন, তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রলীগের লোকজন তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগ ও শিবিরের লোকজনকে সরানোর দাবিও জানান তিনি।

অন্যদিকে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফরহাদ আলী বলেন, ছাত্রদলের দাওয়াত না পাওয়া নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ ছিল না। তিনি দাবি করেন, অধ্যক্ষের কক্ষের গ্লাস ভাঙার শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের এক কর্মীকে মারধর করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।