সারাদেশ
জয়পুরহাটে রাতের আঁধারে ৭০০ কলাগাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় এক দরিদ্র কৃষকের দেড় বিঘা জমির প্রায় ৭০০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গাছগুলোতে থোড় ও কাঁচা কলা ধরেছিল। ফলন্ত বাগানটি রাতের আঁধারে কেটে দেওয়ায় একদিকে যেমন কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, অন্যদিকে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশের গতন শহর গ্রামের মাঠে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ ওই এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, বিভিন্ন এনজিও ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে কলাবাগানটি গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যা ও শ্রম দেওয়ার পর বাগানের অধিকাংশ গাছেই থোড় আসে এবং কাঁচা কলা ধরতে শুরু করে। ফলন ভালো হওয়ায় এবার তিনি ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি কিছুটা লাভের আশাও করেছিলেন।
কৃষক জানান, মঙ্গলবার রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তার কলাবাগানে ঢুকে প্রতিটি গাছ কেটে ফেলে। বুধবার সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রায় সবগুলো কলাগাছ মাটিতে পড়ে আছে। গাছগুলোর সঙ্গে থাকা থোড় ও কাঁচা কলাও নষ্ট হয়ে গেছে। এমন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
চোখের পানি মুছতে মুছতে নূর মোহাম্মদ বলেন, “দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও অনেক আশা নিয়ে বাগানটি করেছিলাম। অধিকাংশ গাছেই থোড় এসেছিল, কাঁচা কলাও ঝুলছিল। গত বছর এই বাগান থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবার বাজার ভালো থাকায় আরও বেশি লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু এক রাতেই দুর্বৃত্তরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কলাবাগানটি ছিল তার পরিবারের আয়ের অন্যতম একটি ভরসা। ঋণ করে বাগান গড়ে তোলার পর ফলন আসার সময় গাছগুলো কেটে দেওয়ায় এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বলেন, একজন দরিদ্র কৃষক অনেক কষ্ট ও ঋণ নিয়ে যে বাগান গড়ে তুলেছেন, সেটি এভাবে নষ্ট করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর বুধবার বিকেলে তিনি জয়পুরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, কৃষক নূর মোহাম্মদ অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।