সারাদেশ

সার উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিক লাঞ্ছিত, গুদাম সিলগালা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

সার উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিক লাঞ্ছিত, গুদাম সিলগালা
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে অবৈধভাবে মজুত করা ইউরিয়া সার উদ্ধারের অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলামসহ পাঁচ সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অভিযানে থাকা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে কামারজানি বন্দরের একটি গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শাহাদাত ফাহিম। এ সময় পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চালিয়ে গুদামের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সারের মজুত পাওয়া যায়। পরে সার মজুতের বিষয়ে ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, একপর্যায়ে সানোয়ার মুন্সীর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। তাঁরা সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে বের হতে বাধা দেন। এ সময় সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলাম, ক্যামেরাপারসন সোহেল রানাসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তা ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলাম ও ক্যামেরাপারসন সোহেল রানাকে ঘিরে রেখেছেন। তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করা হচ্ছে এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা সরঞ্জাম নিয়েও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

অভিযান শেষে অনুমোদনহীন ব্যবসায়ী হিসেবে বাইরে থেকে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার এনে মজুত ও বিক্রির অভিযোগে সানোয়ার মুন্সীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে গুদাম থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেওয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শাহাদাত ফাহিম বলেন, ‘একটা সমস্যা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ তিনি জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিযানে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বলেন, ঘটনার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর কোনো হামলা বা মব করা হয়নি। যদিও অন্য কয়েকটি সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েছিলেন।

সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সানোয়ার মুন্সী, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলম কিংবা তাঁদের পক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কি না, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।