সারাদেশ
রাজশাহীর সাবেক মেয়র লিটনের চাচাতো ভাই অনিন্দ্য আটক, উদ্ধার অস্ত্র-গুলির ভাণ্ডার (ভিডিও)
রাজশাহীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হয়েছেন হোলি আর্টিজান হামলার মামলায় একসময়কার সন্দেহভাজন মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্য (৩৩)। শনিবার (১৬ আগস্ট) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তার কোচিং সেন্টার ‘ডক্টর ইংলিশ’ ঘিরে কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়।
অনিন্দ্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই এবং বিএনপি নেতা শফিউল আলম লাটকুর ছেলে।
সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, সামরিক মানের দূরবিন ও স্নাইপার স্কোপ, ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি ধারালো ডেগার, ওয়াকিটকি সেট, সামরিক জিপিএস, টিজার গান, বিপুল কার্টিজ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, কম্পিউটার, বিদেশি মদ এবং নাইট্রোজেন কার্টিজ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত নাইট্রোজেন কার্টিজগুলো পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

অনিন্দ্যের দুই সহযোগী—রবিন ও ফয়সালকেও আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, তারা কোচিং সেন্টারে চাকরি করতেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।
অনিন্দ্য ২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা এবং গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গোয়েন্দাদের অভিযোগ ছিল, তিনি জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দায়িত্বশীল নেতা এবং হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহে যুক্ত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তখন মামলাগুলো থেকে রেহাই পান তিনি।
এছাড়া রাজশাহীতে শরিফুল ইসলাম নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। শরিফুল পরে স্বীকার করেছিলেন, অনিন্দ্যের হাত ধরেই তিনি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ দেখে মনে হচ্ছে তারা সাধারণ অপরাধী নয়। তাদের পরিকল্পনা থাকতে পারে, কারও সঙ্গে যোগাযোগও থাকতে পারে। রিমান্ডে নিয়ে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হবে।