সারাদেশ

পাবনায় নির্বাচনী প্রচারে হামলায় অস্ত্রধারী সেই যুবক জেলা জামায়াতের আমিরের ভাতিজা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

পাবনায় নির্বাচনী প্রচারে হামলায় অস্ত্রধারী সেই যুবক জেলা জামায়াতের আমিরের ভাতিজা
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি করছেন। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়- তিনি তুষার মণ্ডল, ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ভেলুপাড়ার তাহের মণ্ডলের ছেলে। তুষার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, “জামায়াতকর্মী তুষার মণ্ডল প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। ভিডিওতে সবই ধরা আছে। সে আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অন্যতম সহযোগী।”

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার জানান, ওইদিন জামায়াতের কোনো গণসংযোগ ছিল না। “জামায়াত নেতা তালেব মণ্ডল ও তার লোকজন পূর্বশত্রুতার জেরে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলেকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তালেব নিজেই গাড়ি থেকে অস্ত্র নামিয়ে তাঁর কর্মীদের হাতে দিয়েছেন।”

পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াত নেতাকর্মীরা গাড়িতে অস্ত্র নিয়ে গিয়ে বিএনপির ওপর হামলা করেছে। গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে তারা পালিয়ে যায়। এরপর উল্টো নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে দোষ বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।”

তবে জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, “অস্ত্র হাতে যে যুবক ভিডিওতে দেখা গেছে, সে আমাদের দলের কেউ নয়।”

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।