সারাদেশ

নীলফামারীতে ছেলের ঘরের মেঝে খুড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার, ছেলে পলাতক


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

নীলফামারীতে ছেলের ঘরের মেঝে খুড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার, ছেলে পলাতক
ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় বড় ছেলের ঘরের মেঝের নিচ থেকে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম (৪০) পলাতক রয়েছেন। ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম (৩০) জানান, তিনি ঢাকায় পোশাককর্মী হিসেবে কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার (২৯ মে) জুমার নামাজের পর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। বুধবার বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি তার মা, বড় ভাই, ভাবী ও ভাতিজাকে খুঁজে পাননি।

রাত ১১টার দিকে বড় ভাইয়ের শোবার ঘরের মেঝেতে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে তিনি কিশোরীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মেঝে খুঁড়ে তার মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহের মাথার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাতের কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয় এবং পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, ছোট ছেলে ঢাকায় থাকায় মারুফা বেগম বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। গত সোমবার (১ জুন) থেকে হঠাৎ করেই তাকে ও তার বড় ছেলেকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে পুত্রবধূর সঙ্গে মারুফা বেগমের ঝগড়া হয়েছিল। পরে রাগ করে পুত্রবধূ ছেলে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই মারুফা বেগম ও তার বড় ছেলে নিখোঁজ ছিলেন।

কিশোরীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে বড় ছেলে জুয়েল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী হাসি বেগম (৩২) ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৫) থানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।