খেলা

পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো কিংবদন্তি কস্তা মারা গেছেন


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম

পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো কিংবদন্তি কস্তা মারা গেছেন
জর্জ কস্তা। ছবি: সংগৃহীত

কখন যে কার জীবনের আলো নিভে যায়, কেউ জানে না। ঠিক এমনই এক অপ্রত্যাশিত দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্ব। ইউরোপিয়ান ফুটবলের পরিচিত মুখ, পোর্তোর কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জর্জ কস্তা আর নেই। ক্লাবের অনুশীলন সেন্টারে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৩ বছর।

সেদিনটা ছিল একদমই সাধারণ। ক্লাবের রুটিন কাজ চলছিল, কারও মনেও ছিল না এমন দুঃসংবাদ। কিন্তু জীবন তো ঠিক এমনই—যেখানে সব হিসেব, সব পরিকল্পনা মুহূর্তেই ভেস্তে যেতে পারে।

পোর্তোর ড্রেসিংরুম, মাঠ, গ্যালারি—সবখানেই যেন শূন্যতা। কারণ, কস্তা শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না; ছিলেন দলের অনুপ্রেরণা, নেতৃত্বের প্রতীক। খেলোয়াড় হিসেবে যেমন, তেমনই প্রশাসক হিসেবেও ফুটবলে নিজের ছাপ রেখেছেন।

gorge kasto1_Dhakaprokash.jpg

২০০৩-০৪ মৌসুমে পোর্তোর হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্মরণীয় মুহূর্তের অন্যতম নায়ক ছিলেন কস্তা। মাঠে তার ঠাণ্ডা মাথার নেতৃত্ব আর দুর্ভেদ্য ডিফেন্স দেখে প্রতিপক্ষরা কেঁপে উঠত। ক্যারিয়ারে ৩২৫ ম্যাচ খেলেছেন পোর্তোর হয়ে। আটবার জিতেছেন পর্তুগিজ লিগ। আর সেই অর্জনের চূড়ায় বসে ছিল ইউরোপ সেরা হওয়ার ট্রফি।

তবে শুধু ক্লাব নয়, দেশের হয়েও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন ৫০টি ম্যাচ। ১৯৯১ সালে ফিগো-রুই কস্তাদের সঙ্গে মিলে জিতেছিলেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ। যাকে পর্তুগালের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়, সেই ইতিহাসেরই একজন ছিলেন হোর্হে কস্তা।

কোচ হিসেবেও ছিলেন দারুণ ব্যস্ত। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ১৬টিরও বেশি ক্লাবে কোচিং করান তিনি। চলতি মৌসুমেই আবার ফিরেছিলেন প্রিয় ক্লাব পোর্তোতে—ফুটবল পরিচালক হিসেবে। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ দিল না। প্রিয় ক্লাবেই প্রাণ গেল এই কিংবদন্তির।

gorge kasto2_Dhakaprokash.jpg

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন হোসে মরিনিও। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে সংবাদ সম্মেলনে কস্তার কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় তার। বললেন, “সে যদি আজ কথা বলতে পারত, বলত—সংবাদ সম্মেলন শেষ করুন, ম্যাচটা খেলুন, জিতে ফেলুন। ও চায় না কেউ তার জন্য থেমে থাকুক। আজ-কাল আমি সেটাই করব।”

এমন মানুষই ছিলেন হোর্হে কস্তা। খেলার মাঠে যেমন শক্ত, মনেও ছিলেন ততটাই নম্র। মাঠে তার নেতৃত্বে যেমন ভরসা ছিল, তেমনি ড্রেসিংরুমেও ছিলেন ভাইয়ের মতো। ক্লাবের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ।

আজ তিনি নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি, তার নেতৃত্ব, তার সততা—সেগুলো ঠিকই রয়ে যাবে ফুটবল ইতিহাসে। হয়তো তিনি চলে গেছেন, কিন্তু যারা ভালোবাসে পোর্তোকে, তারা কখনও ভুলবে না ‘দ্য ট্যাঙ্ক’ হোর্হে কস্তাকে।