খেলা
আজ বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলতি ওয়ানডে সিরিজে মেহেদী হাসান মিরাজদের অবস্থা আধো ভাসমান ও আধো ডুবন্ত। বোলিংটা ঠিকঠাক হলেও বরাবরের মতো ব্যাটিংটা হচ্ছে এর উল্টো; যে কারণে দারুণ বোলিং পারফরম্যান্স বিসর্জনে যাচ্ছে। বাজে ব্যাটিংয়ে ওয়ানডে সিরিজে ভরাডুবি হয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়ে বসে আছে।
আজ হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর শেষ ম্যাচটি তাই ক্রিকেটারদের জন্য হয়ে উঠেছে বাকি অর্ধেকটা ভাসানোর লড়াইও। দলের সামর্থ্যে সব সময়ই বিশ্বাসী স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ আশাবাদী মানুষ। তাই প্রায় সব খোয়ানোর পরও অর্ধেক ভরা গ্লাসই দেখতে পান পাকিস্তানের সাবেক এই লেগস্পিনার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানদের মাত্র ১৯০ রানে বেঁধে ফেলেও ৮১ রানের বিশাল হারের লজ্জায় ডোবার পর তিনিই সামনে নিয়ে এসেছেন দলের বাকি অর্ধেক ভাসানোর বিষয়টি, ‘আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ ভালো দল।
কিন্তু এই দলটির প্রতিভার প্রতিফলন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের বোলিং ভালো হচ্ছে। এখন ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে পারলেই...।’ কিন্তু সর্বশেষ ১১ ওয়ানডের ১০টিতেই হারা দলের কাছে আজকের শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে উন্নতির আশায়ও ঝুঁকি আছে।
কারণ বারবারই তাদের মধ্যে ম্যাচ সচেতনতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ওভারপ্রতি মাত্র চারেরও কম রানের চাহিদা মেলাতে নেমে ব্যাটাররা একেকজন মেরে-ধরে খেলার তাড়াহুড়ায় নিজেদের বিপদ উন্মুক্ত করে দেন। তাতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও কারো বোধোদয় হয়নি; বরং গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলে উইকেট বিলানোর প্রতিযোগিতা। তাই মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া দল টানা তৃতীয়বার সিরিজ হারে আফগানদের কাছে। এই হারের কারণ ব্যাখ্যায় মুশতাকের বক্তব্যই বুঝিয়ে দেয় যে সহজ লক্ষ্য তাড়ায় কত ঘাটতি নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটটা মিনি টেস্ট ক্রিকেটের মতো।
এখানে কখন রক্ষণ করতে হবে, কখন আক্রমণ করতে হবে, কোন বোলারকে মারতে হবে বা কোন বোলারকে সমীহ করতে হবে—এসব বুঝতে হবে। এসব হিসাব করে ব্যাটারদের প্রতিপক্ষের চেয়ে স্মার্ট হতে হবে।’ আগের দুই ম্যাচে ব্যাটাররা কতটা ‘স্মার্ট’ ছিলেন, সিরিজ হারই দিচ্ছে সেই সাক্ষ্য।
১৫ অক্টোবর দেশে ফিরেই আরেকটি ওয়ানডে সিরিজে নামতে হবে মিরাজদের, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।