বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি

শিশুদের তথ্য চুরি, ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনছে টিকটক


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

শিশুদের তথ্য চুরি, ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনছে টিকটক
ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহের অভিযোগে টিকটক ও এর মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করা একটি মামলা নিষ্পত্তিতে এই অর্থ দিতে রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও দেশটির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা যৌথভাবে টিকটকের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৩ বছরের কম বয়সী লাখ লাখ শিশুর তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিভাবকদের অনুরোধ সত্ত্বেও অনেক শিশুর অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য মুছে দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ ‘কিডস মোড’ অ্যাকাউন্ট থেকেও ইমেইল ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে। অভিভাবকেরা সন্তানদের তথ্য ও অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও টিকটক তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করবে টিকটক। বাকি ১০০ মিলিয়ন ডলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, এই চুক্তি দেশটির শিশু ও অভিভাবকদের জন্য একটি বিজয়। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করাই অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুম্যাটও বলেন, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে।

মামলা চলাকালে টিকটক তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ৮০ শতাংশের বেশি মালিকানা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। এর মধ্যে ওরাকল ও সিলভার লেকের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। অন্যদিকে, বাইটড্যান্সের হাতে রয়েছে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার।

শিশুদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে টিকটকের বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র আইনি পদক্ষেপ নয়। এর আগে একই ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউটিউবকে ১৭০ মিলিয়ন ডলার এবং ফোর্টনাইট গেমের নির্মাতা অ্যাপিক গেমসকে ২৭০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও শিশুদের সাইবার বুলিং ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষার বিষয়ে টিকটকের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধেও শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।