কুয়াকাটায় হোটেলে ৫০ শতাংশ ছাড়, তবু নেই পর্যটক

১৪ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৫০ এএম | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২৭ এএম


কুয়াকাটায় হোটেলে ৫০ শতাংশ ছাড়, তবু নেই পর্যটক

সাগরকন্যা কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবুও দেশের আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্রে আসছেন না ভ্রমণপিপাসুরা। চলতি রমজান মাসের শুরু থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকনের এই সৈকতে। এ জন্য পর্যটকদের টানতে ছাড় দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের আগে ছুটির দিনগুলোতে আবাসিক হোটেলে কক্ষ সংকটে পড়েছেন অসংখ্য পর্যটক। কমিউনিটি ট্যুরিজমের আওতায় অনেক পর্যটক আশ্রয় নিতেন আশেপাশের বাসাবাড়িতে। অনেকে আবার খোলা আকাশের নিচে, বাসের মধ্যে, সৈকতের বেঞ্চে রাতযাপন করেছেন। কিন্তু এখন সেই চিত্র একেবারেই উল্টো। পর্যটক না থাকায় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকান খুলছেন না। ফলে চরম বেকাদায় পড়েছেন পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত নিম্ন আয়ের মানুষরা।

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে, জিরো পয়েন্ট এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের সামনে তিন জন পুলিশ সদস্য বসে আছেন। সৈকতে মোটরসাইকেল রেখে কয়েকজন চালক আড্ডা দিচ্ছেন। একটু দূরে কয়েকজন ফটোগ্রাফার ক্যামেরা নিয়ে বসে বসে আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাচ্ছেন। আর গোটা সৈকতে ৪০ থেকে ৫০ জন পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কাওসার আহমেদ ও লিমা আক্তার দম্পতি। তারা গাজীপুর থেকে এসেছেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে।

কাওসার আহমেদ বলেন, ‘এই প্রথম কুয়াকাটায় এসেছি। কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি। এখানকার পরিবেশ খুব ভালো। সৈকতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগল। তবে পর্যটক না থাকায় সবকিছু ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে।’

সৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেবুর বন, শুঁটকি পল্লী, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কাউয়ারচর, গঙ্গামতিসহ সব দর্শনীয় স্থান পর্যটকশূন্য। গুটিকয়েক ফুচকা বিক্রেতা দোকান খুলে বসে আছেন। সৈকতের ভাসমান দোকান, শুঁটকি মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, রাখাইন নারী মার্কেটে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। আগের মতো নেই হইচই কোলাহল।

সৈকতের ফটোগ্রাফার বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘রমজানের আগে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা আয় হতো। এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে কষ্ট হয়। রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেছে। এখন বাজার-সদায় কিনতে কষ্ট হয়। ঈদের বাজার কীভাবে করব জানি না।’

ফুচকাবিক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রমজানের আগে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। এখন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। বেচা-কেনা একেবারে কমে গেছে। খুব সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে।’

মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিম বলেন, ‘রমজানের আগে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় করতাম। বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করতে কষ্ট হয়।’

সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, ‘রমজানের আগে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন ৫০০ টাকা বিক্রি করতে কষ্ট হয়।’

কথা হয় আবাসিক হোটেল সি-ভিউ ম্যানেজার সোলায়মান ফরাজীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হোটেলে ৫০ শতাংশ ছাড় চলছে। রমজানের শুরু থেকেই প্রায় সব হোটেল ছাড় দিয়েছে।’

গ্রিন ট্যুরিজমের আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘প্রতি বছরই রমজান মাসে পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়। এখানকার ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের বরণ করতে তাদের প্রতিষ্ঠান ঢেলে সাজানোর কাজ করেন।’

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক হোসাইন আমির বলেন, ‘প্রতি বছর রমজান মাসে পর্যটক কম থাকেন। ঈদকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেলগুলোতে সাজসজ্জার কাজ চলছে।’

এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা গেস্ট হাউজের মালিক আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, ‘রমজানের শুরু থেকেই পর্যটক কমে গেছে। এই ফাঁকে আমাদের হোটেলগুলোতে আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক মালামাল করে ঈদে আগত পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। তারপরও যেসব পর্যটক কুয়াকাটায় আসছেন আমরা তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিচ্ছি।’

আরএ/


বিভাগ : পর্যটন

বিষয় : সারাদেশ



তদন্তের প্রয়োজনে ড. ইউনুসকে ডাকা হয়েছে, আসা না আসা তার ব্যাপার :দুদক চেয়ারম্যান

০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৩৫ পিএম | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ০২:০৩ এএম


তদন্তের প্রয়োজনে ড. ইউনুসকে ডাকা হয়েছে, আসা না আসা তার ব্যাপার :দুদক চেয়ারম্যান
ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করেছেন তাই ডেকেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনুস দুদকে আসবেন কি না, এটা তার ব্যাপার।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

অর্থপাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলজয়ী ড. ইউনূসসহ ১৩ জনকে দুদকে তলব করা হয়েছে। আগামী ৪ ও ৫ অক্টোবর ‍দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

এদিন বিকেলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি কমিশনের কাজ নয়। মামলা হবে কি, হবে না এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে, এখন তদন্ত কর্মকর্তা ঠিক করবেন কাকে ডাকবেন তিনি। যাকে প্রয়োজন মনে করবেন তাকে ডাকবেন। তার নিজস্ব বিষয় এটা।

তিনি আরও বলেন, তলবের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর জানতে পেরেছি আমি। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করেছেন, তাই ডেকেছেন। তিনি আসলে ভালো, আর না আসলে সেটা তার ব্যাপার।

এছাড়া ড. ইউনূসকে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কেন হয়রানি করা হবে তাকে। শ্রমিকদের লভ্যাংশ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে কারখানা পরিদপ্তর থেকে তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তদন্ত করেছে দুদক এবং মামলা হয়েছে। আপনারা এটাকে কেন হয়রানি বলছেন?

এর আগে ২০২২ সালের ২৩ জুলাই নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে দুদকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে গ্রামীণ টেলিকমের বেশিরভাগ লেনদেনই সন্দেহজনক। শুধু তাই নয়, আইএলওতে দেয়া শ্রমিকদের অর্থপাচারের অভিযোগেরও তদন্ত চায় সংস্থাটি।

 

 


আমেরিকার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপস হয়ে গেছে :ওবায়দুল কাদের

০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৪৯ পিএম | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৫৭ এএম


আমেরিকার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপস হয়ে গেছে :ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।ফাইল ছবি

আমেরিকার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দিল্লি কিংবা আমেরিকারসহ সবার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বন্ধুত্ব রয়েছে, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা কিংবা ভিসা নীতির পরোয়া করে না, বিএনপি যতই ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন হবেই হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনও চিন্তা নেই, এটা সঠিক সময় অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি কোনো কারণে ফাউল করলে লাল কার্ড। তারা আন্দোলনের হেরে গেছে, নির্বাচনেও হেরে যাবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়া ছাড়া ইলেকশনে না যাওয়ার হুমকি বিএনপি আর কত দেবে? বিএনপি খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন করবে না, এ কথা একেবারেই মিথ্যা। তাদের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার জন্য একটি আন্দোলনও করতে পারলেন না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আবারও ক্ষমতায় গেলে দেশের সম্পদ চুরি, লুটপাট, ষড়যন্ত্র সন্ত্রাস করবে। গণতন্ত্রকেও গিলে খাবে। আবারও এই দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানাবে। তাদের নেতা কাপুরুষের মতো লন্ডনে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন, সাহস থাকলে ঢাকায় আসুক।

দেশের জনগণকে শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া জনপ্রিয়, বিশ্বস্ত এবং সাহসী নেতা আর নেই। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনার রাতের ঘুম হারাম।


অবৈধ সরকারকে বিদায় করেই ঘরে ফিরব: বিএনপির আমির খসরু

০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:৪৬ পিএম | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৩৪ এএম


অবৈধ সরকারকে বিদায় করেই ঘরে ফিরব: বিএনপির আমির খসরু
বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি সংগৃহিত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অবৈধ সরকারকে বিদায় করেই তার পর আমরা ঘরে ফিরব।

মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় ২ ঘণ্টাব্যাপী রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌদুরী।

তিনি বলেন, মানবতার মা বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা করা খুবই জরুরি কিন্তু সরকার নানান রকম দোহাই দিয়ে কালক্ষেপণ করছে।

তিনি বলেন, একটি অবৈধ সরকার ক্ষমতা টেকানোর জন্যে একের পর এক অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের ভয়, বেগম খালেদা জিয়া যদি দেশের বাইরে যান, তবে তাদের ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে, তবে তারেক রহমান দেশে চলে আসবেন।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধান বক্তা বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও ফরিদপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও ফরিদপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক শাহাজাদা মিয়া,বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং একদফা আদায়ের লক্ষ্যে ফরিদপুর বিভাগীয় রোডমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

অনুসরণ করুন