ইভিএম মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে

২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৫২ পিএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৪১ পিএম


ইভিএম মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে

বাংলাদেশে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ একটি নতুন পদ্ধতি। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এখনো জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়নি।

ইভেএম-এর বেশ কিছু দুর্বলতা আছে। যেমন নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক লোক ঢুকে কেউ যদি প্রতিটি কেন্দ্রে মেশিনে তাদের তৈরি করা এমন প্রোগ্রাম ইনস্টল করে দেন যে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতীকে অতিরিক্ত ভোট যুক্ত হবে তাহলে সহজেই নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়া সম্ভব।

মাইক্রোকন্ট্রোলারের প্রোগ্রাম পরিবর্তন করে কেন্দ্রের সকল প্রার্থী একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট পাবার পর যেকোনো ব্যালট বাটনে চাপলেই অতিরিক্ত ভোট দখলকারী প্রার্থীর প্রতীকে যুক্ত হবে, এমন প্রোগ্রাম রাইট করেও ডিজিটাল ব্যালট ম্যানিপুলেট করা সম্ভব। নির্বাচন কর্মকর্তার স্মার্ট কার্ডের নকল করা সম্ভব হলে তা দিয়ে দলীয় প্রার্থী ইচ্ছেমত ভোট দিতে পারবে। প্রভাবশালীরা কেন্দ্র দখল করে সহজেই তাদের অগ্রিম ভোট দেওয়া ইভিএম ভোটকেন্দ্রে সরবরাহ করে কন্ট্রোল ইউনিট প্রতিস্থাপন করে ভোটসংখ্যার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কোনো একটিমাত্র সংস্থার দ্বারা ভোটদান থেকে গণনা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রক্রিয়া যাচাই করা সম্ভব নয়। এ রকম নানবিধ দুর্বলতা আছে।

আমি বলব ইভিএম একটি যন্ত্র এবং নিম্নমানের একটি যন্ত্র, যেটি দিয়ে ভোট গণনা করা যেমন যায় তেমনি ভোট জালিয়াতিও করা যায়। ভোট কারচুপির মাধ্যমে এই জালিয়াতিটুকু করতে পারে নির্বাচন কমিশন এবং তার কর্মকর্তারা। আমি মনে করি, যদি সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হয় তাহলে ইভিএম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি কোনো সমাধান হতে পারে না। আমাদের এই ভোট কারচুপির নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইভিএম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখানে আরও অনেক দুর্বল পয়েন্ট আছে, যার একটি হল আমাদের এখানে ওভার রাইট করা যায়।

তারমানে এখানে পোলিং অফিসার অথবা রিটার্নিং অফিসার চাপ দিয়ে অন্যের ভোট দিয়ে দিতে পারেন। তা ছাড়া, এখানে ভোট দান ডিজিটাল হলেও ভোট গণনাটি ম্যানুয়াল। কাজেই ডিজিটাল মেশিন থেকে তথ্য নিয়ে ম্যানুয়ালি গণনা করতে হয়।

কাজেই এখানে হেরফের হতে পারে, যেহেতু আমাদের সব লোকজন দলীয়। অতীতের দিকে তাকালে আমরা দেখব, গত জাতীয় নির্বাচনে ৩০ শতাংশ ভোটের হার কম ছিল। তার মানে মানুষ এভাবে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

ইভিএমকে ভোট কারচুপির যন্ত্র বলতে হবে। যারা পাহারাদার তারাই ভোট কারচুপি করতে পারে। নির্বাচন কমিশন ও তাদের কর্মকর্তারা, নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত যারা তারাই এই ভোট কারচুপি করতে পারে।

এই মেশিন কেনার জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। আমরা যেখানে ঋণ করে বিদেশ থেকে পয়সা কড়ি আনছি, আর সেখানে ভোট জালিয়াতিকে সহায়তা করবে, মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সম্পুর্ণ অযৌক্তিক। আমি বলব এটি দায়িত্বহীনতা ও দায়বদ্ধতার অভাবের ফল। কাজেই মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষায় ইভিএম কোনো প্রকৃত সমাধান নয় বলে আমি মনে করি।

লেখক: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)