ক্যাম্পাস
ভিসির সঙ্গে প্রথম সভায় কী সিদ্ধান্ত হলো, জানালেন ডাকসু জিএস ফরহাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যনির্বাহী সভায় বসেছেন। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ের সংলগ্ন লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ সভা, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কাঙ্ক্ষিত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খানসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা।
সভা শেষে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “এই নির্বাচনে কেউ হারেনি, সবাই মিলে কাজ করার জন্য এসেছি। এটা শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বিজয়, জুলাই প্রজন্মের জয়।” তিনি আরও বলেন, “৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা প্রশ্ন করবেন, আর আমরা কাজের মাধ্যমে জবাব দেব।”
জিএস এসএম ফরহাদ জানান, প্রথম সভাতেই তারা একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে খুব শিগগিরই বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই। কোনো দলীয় স্বার্থ নয়, শিক্ষার্থীদের কথা বলাই হবে আমাদের মূল কাজ।”
সভায় আরও জানানো হয়, নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ পদেও নতুন মনোনয়ন আসছে।
নবনির্বাচিত নেতারা সভায় গঠনমূলক নীতিমালা তৈরির অঙ্গীকার করেন। তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভা শুরুর আগে উপাচার্য নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে ভিপি, কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হন ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি পাঁচটি পদের মধ্যে চারটিতে স্বতন্ত্র এবং একটি পদে বামপন্থী জোটের প্রার্থী বিজয়ী হন। এর আগে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালের ১১ মার্চ। রবিবারের এই সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ডাকসুর নতুন কার্যপরিষদের দায়িত্ব পালনের যাত্রা।