ক্যাম্পাস
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্যকোটা স্থগিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক সন্তানদের জন্য চালু করা ‘পোষ্য কোটা’ নিয়ে কয়েক দিনের টানা ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে পিছু হটেছে প্রশাসন। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় জানানো হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ভর্তি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে বিষয়টি চূড়ান্ত আলোচনার জন্য।
এই ঘোষণার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করছিলেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল ছিল চত্বর। তাদের মূল দুটি দাবি ‘পোষ্য কোটা’ বাতিল এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাকসু নির্বাচন আয়োজন।
ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনস্থল ত্যাগ করলেও অনেকে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, এটি কেবল স্থগিতের ঘোষণা, বাতিল নয়। ফলে সিন্ডিকেট সভায় ‘স্পষ্ট সিদ্ধান্ত’ না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু হুরায়রা বলেন, “আমরা বৈষম্যমূলক একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। ‘পোষ্য কোটা’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ। এর স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে বৃহস্পতিবার, ভর্তি কমিটির এক সভায় শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য শর্তসাপেক্ষে কোটা অনুমোদনের পর। পরদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। ক্রমেই তা অনশন, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
শনিবার রাতে উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন ছাত্রী হলগুলো থেকেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেয়। রাতভর স্লোগানে মুখর ছিল ক্যাম্পাস।
এদিকে আন্দোলনের মাঝে উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ আজ রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে অনশনে অংশ নেওয়া নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।