ক্যাম্পাস
চুয়েটে ভিসি বদলের প্রতিবাদে শাটডাউন, মূল ফটকে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সকাল থেকেই চুয়েটের সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা শাটডাউন কর্মসূচিতে নেমেছেন।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার খবর প্রকাশের পরই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সোমবারের এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরপরই তার নিয়োগের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে পরিবর্তন করে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন পরিস্থিতির অগ্রগতি নির্ভর করছে।